‌সিলেটে আবাসিক হোটেলগুলোতে দেহব্যবসা: কঠোর অবস্থানে পুলিশ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজঃ

সিলেট নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলোতে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, হোটেল ব্যবসার ক্ষেত্রে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্দেশিত নিয়মগুলো যথাযথ অনুসরণ করেন না অধিকাংশ হোটেল মালিক।

এক্ষেত্রে অপরাধ বিশ্লেষকরা হোটেল মালিকদের গাফিলতি এবং বর্ডারদের অসচেতনতাকে দায়ি করছেন ।
এছাড়া এসব হোটেলে মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন রকম অপরাধ সংঘটনের অভিযোগও রয়েছে।

জানা যায়, কিছু কিছু আবাসিক হোটেলের মালিক ও কর্মচারীরা বাড়তি ইনকামের আশায় হোটেল অভ্যন্তরে বিভিন্ন নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা, নানা ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসরের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

এসব হোটেলে ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা ভাড়া রুম মিলছে। আর বিশ্বস্ত বা পরিচিত হলে ভাড়া আরো কম রাখা হয়।

নগরীর কদমতলি বাস টার্মিনাল, চাঁদনী ঘাট, লালবাজার, সুরমা মার্কেট এলাকা, রেল স্টেশন এলাকা,তালতলা, ওসমানী মেডিকেল এলাকা, আম্বরখানা এয়ারপোর্ট রেড, দরগাগেট এলাকার অধিকাংশ হোটেলে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা।
এসব হোটেলের বেশিরভাগের লাইসেন্স বা কোন অনুমোদনও নেই।

চাঁদনী ঘাট এলাকার একটি হোটেলের ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তার হোটেলের লাইসেন্স আছে কি-না এ ব্যাপারে তিনি অবগত নন। বিষয়টি হোটেল মালিকই ভালো বলতে পারবেন।

তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ আবাসিক হোটেলেই সিসিটিভি ক্যামেরা ও বর্ডারদের ছবি তুলে রাখার কোন ব্যবস্থা নেই। এছাড়া প্রতিদিনি রাত ১২টার মধ্যে আবাসিক হোটেলগুলোর বর্ডারদের নামের তালিকা পরিচয়সহ থানায় জমা দেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এটি মানছেন না হোটেল মালিকরা।

এদিকে সিলেট নগরীতে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে ‘অসামাজিক কার্যক্রম’ বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন এলাকার আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন থেকে চলা অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসন এবার বেশ নড়েচড়ে বসেছে।এসব হোটেলে প্রায় প্রতিদিনই চালানো হচ্ছে অভিযান। এসব কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত অনেক তরুণ-তরুণী ধরা পড়ছে।

সবশেষ শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ সুরমা থানাধীন ভার্থখলা এলাকার অভি আবাসিক হোটেলে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত অবস্থায় ৭ নারী-পুরুষকে আটক করেছে। সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া শাখা জানায়, অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ৩ নারী ও ৪ পুরুরষকে আটক করা হয়েছে।

এর আগে ২ (ফেব্রুয়ারি) নগরীর লালবাজারের হোটেল আল মিনার থেকে ৬ নারী পুরুষ আটক করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর মধ্যে ২ মহিলা ও ৪ জন পুরুষ ছিলেন।
২০ জানুয়ারি রাতে নগরীর সোনালী আবাসিক হোটেল থেকে একই অপরাধে ১২ জন
নারী-পুরুষকে আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

এর আগেও ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরস্থ তিতাস আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৫ যুবতী ও ৯ যুবকসহ মোট ১৪ জন যুবক-যুবতিকে আটক করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।

সবমিলিয়ে গেল কয়েক সপ্তাহে সিলেট নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় অন্তত ৩৯ জন নারী-পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান, মহানগর পুলিশ।

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্ল্যা তাহের বলেন, সিলেটের আবাসিক হোটেগুলোতে অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে মহানগর পুলিশ। এসব অপরাধ রোধে প্রায় প্রতিদিনই এসব হোটেলে অভিযান চালানো হচ্ছে। অভিযানে এসব কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত তরুণ-তরুণীরা ধরাও পড়ছে, এবং তারে বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা।#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *